1. jasemruman@gmail.com : Mohammad Jasemuddin : Mohammad Jasemuddin
  2. bankersdorpon@gmail.com : Anis Munshi : Anis Munshi
  3. azizulhoquedc330@gmail.com : Azizul Hoque : Azizul Hoque
  4. anis.buet2009@gmail.com : superadmin :
  5. shamimbasic2012@gmail.com : Munshi Mohammad Shamim Ahmed : Munshi Mohammad Shamim Ahmed
  6. abusolaiman1984@gmail.com : Abu Solaiman : Abu Solaiman
  7. ferdauszinnat@gmail.com : Zinnat Ferdaus : Zinnat Ferdaus

আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ে প্রবেশের ধরন (Entry modes of International Business)

  • আপডেট টাইম : Tuesday, November 15, 2022
  • 28 বার পঠিত

দেশের সীমানা পেরিয়ে যখন বিদেশের বাজারে প্রবেশ করা হয়, তখন ব্যবসায়ের ধরন, আকৃতি কিংবা প্রকৃতি পরিবর্তিত

হয়ে যায়। এই ব্যবসায়ের ধরন বা প্রকৃতি কেমন হবে, তা বিভিন্ন উপাদান যেমনঃ আইনগত উদ্দেশ্য, সামর্থ্য, তত্ত্বাবধায়ক

ব্যবসায়ের ঝুঁকি ইত্যাদির ওপর নির্ভর করে।

আন্তর্জাতিক ক্রিয়াকলাপ পরিচালনা একটি কোম্পানির উদ্দেশ্য এবং তারা যে উপায়ে তাদের বহন করে তার উপর নির্ভর করে। ক্রিয়াকলাপগুলি বাস্তবিক এবং সামাজিক কারণ এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশকে প্রভাবিত করে ।

অপারেশন/কার্যপদ্ধতিঃ যে সমস্ত সংস্থাগুলি আন্তর্জাতিক ব্যবসায় যেতে চায় তাদের একটি লক্ষ্য রয়েছে; আন্তর্জাতিক বাণিজ্য লেনদেনে জড়িত থাকার সময় তাদের নিজ নিজ অর্থনৈতিক মান বৃদ্ধি করার ইচ্ছা। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য, প্রতিটি ফার্মকে অবশ্যই মান, কম খরচ এবং লাভ বাড়ানোর জন্য তার স্বতন্ত্র কৌশল এবং পদ্ধতির বিকাশ করতে হবে। একটি ফার্মের মূল্য সৃষ্টি হল V (বিক্রি করা পণ্যের মূল্য) এবং C (প্রতিটি বিক্রিত পণ্যের উৎপাদন খরচ) এর মধ্যে পার্থক্য। মূল্য সৃষ্টিকে শ্রেণীবদ্ধ করা যেতে পারে: প্রাথমিক কার্যক্রম (গবেষণা ও উন্নয়ন, উৎপাদন, বিপণন ও বিক্রয়, গ্রাহক সেবা) এবং সহায়তা কার্যক্রম (তথ্য ব্যবস্থা, সরবরাহ, মানবসম্পদ)। এই সমস্ত ক্রিয়াকলাপ অবশ্যই কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে হবে এবং দৃঢ় কৌশলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। যাইহোক, আন্তর্জাতিকভাবে বিস্তৃত সংস্থাগুলির সাফল্য বিক্রি হওয়া পণ্য বা পরিষেবাগুলির উপর এবং ফার্মের মূল দক্ষতার উপর নির্ভর করে (প্রতিযোগী ফার্মের মধ্যে দক্ষতার সহজেই মিল বা অনুকরণ করতে পারে না)। একটি ফার্ম সফল হওয়ার জন্য, ফার্মের কৌশল অবশ্যই সেই পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে যেখানে ফার্ম কাজ করে। অতএব, তারা যে সেটিংয়ে কাজ করছে এবং তারা যে কৌশল অনুসরণ করছে তার পরিবর্তনগুলি প্রতিফলিত করার জন্য ফার্মকে তার সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে। একবার একটি ফার্ম যখন বিদেশী বাজারে প্রবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন প্রবেশের একটি মোড বা ধরন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একটি বিদেশী বাজারে প্রবেশ করার জন্য ছয়টি ভিন্ন মোড বা ধরন রয়েছে এবং প্রতিটি মোডের সুবিধা এবং অসুবিধা রয়েছে যা এটির সাথে যুক্ত। ফার্মকে অবশ্যই সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে কোন মোডটি কোম্পানির লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যগুলির সাথে সবচেয়ে উপযুক্তভাবে সারিবদ্ধ। প্রবেশের ছয়টি ভিন্ন পদ্ধতি হল রপ্তানি, টার্নকি প্রকল্প, লাইসেন্সিং, ফ্র্যাঞ্চাইজিং, একটি হোস্ট-কান্ট্রি ফার্মের সাথে যৌথ উদ্যোগ স্থাপন, বা হোস্ট দেশে একটি নতুন সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহায়ক সংস্থা স্থাপন।

আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ের প্রবেশের সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় তারা ব্যবসায়ের কোন ধরন গ্রহণ

করবে। কোনো প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে কোন ধরন বেছে নিতে পারে তা নিম্নে দেখানো হলো :

পরিচালনাগত পরিবেশঃ

বস্তুগত ও সামাজিক উপাদান

প্রতিযোগিতামূলক উপাদান

কার্যক্রমঃ

উদ্দেশ্য

কৌশল

ধরন (Modes)

আমদানি ও রপ্তানি

ভ্রমণ ও পরিবহন

লাইসেন্সিং ও ফ্র্যাঞ্চাইজিং

টার্নকি প্রকল্প ব্যবস্থাপনা চুক্তি

প্রত্যক্ষ ও পোর্টফলিও বিনিয়োগ

উপায় (Means)

কার্যক্রম

বিপণন

বিশ্বব্যাপী উৎপাদন ও সরবরাহ চেইন ব্যবস্থাপনা

হিসাবরক্ষণ

অর্থায়ন

মানবসম্পদ

বিকল্প

দেশ নির্বাচন

সংগঠন ও নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি

 

(১) আমদানি ও রপ্তানি (Import and Export)

 

(ক) পণ্যদ্রব্য আমদানি ও রপ্তানি (Merchandise Import & Export)

আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পণ্যদ্রব্য আমদানি ও রপ্তানি সর্বাধিক জনপ্রিয়

পদ্ধতি। পণ্যদ্রব্য যখন একটি দেশের বাইরে প্রেরণ করা হয় তাকে পণ্যদ্রব্য রপ্তানি এবং পণ্যদ্রব্য যখন একটি দেশে আনা

হয় তাকে পণ্যদ্রব্য আমদানি বলা হয়। যেমন : বাংলাদেশ হতে তৈরি পোশাক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হলে তা

বাংলাদেশের জন্য রপ্তানি, কিন্তু ‘ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আমদানি হিসেবে গণ্য হবে।

খ) সেবা আমদানি ও রপ্তানি (Service Import and Export)

সাধারণত আমদানি ও রপ্তানি বলতে পণ্যদ্রব্যের আমদানি ও রপ্তানিকে বোঝানো হয়। পণ্যদ্রব্য ছাড়াও দৃশ্যমান নয়, এমন

কোনো কিছু বিনিময়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আয়কে আমরা সেবা আমদানি ও রপ্তানি হিসেবে গণ্য করি। কোনো ব্যক্তি বা

প্রতিষ্ঠান যদি সেবা প্রদানের মাধ্যমে অর্থ আয় করে তাকে সেবা রপ্তানি এবং কোনো ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি সেবা গ্রহণের

মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করে তাকে সেবা আমদানি বলা হয়। বর্তমান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে সেবা সবচেয়ে দ্রুততম বৃদ্ধির

খাত গঠন করেছে। ভ্রমণ, পরিবহন, ব্যাংকিং, বীমা, সম্পত্তির ব্যবহার, ট্রেডমাকর্, পেটেন্ট, কপিরাইট ইত্যাদি এ ধরনের

সেবার উদাহরণ।

(২) লাইসেন্সিং ( Licensing)

লাইসেন্সিং হলো এমন এক ধরনের চুক্তিব্যবস্থা, যার মাধ্যমে লাইসেন্সদাতা (Licensor) একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অন্য

একটি সত্তাকে (লাইসেন্সগ্রহীতা) তার অদৃশ্যমান সম্পত্তির অধিকার মঞ্জুর করে এবং তার বিনিময়ে লাইসেন্সদাতা

লাইসেন্সগ্রহীতার (Licensee) নিকট থেকে রয়ালটি ফি গ্রহণ করেন। এ ধরনের অদৃশ্যমান সম্পত্তির উদাহরণ হলো :

আবিষ্কার সূত্র, প্রক্রিয়া, প্রযুক্তি, কপিরাইট, ট্রেডমার্ক  ইত্যাদি।

সুবিধাসমূহ :

(ক) যেহেতু সাধারণ আন্তর্জাতিক লাইসেন্সিং চুক্তিতে একটি বিদেশি বাজারে কার্যক্রম চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন

লাইসেন্সগ্রহীতা গ্রহণ করে থাকে, সে কারণে কোনো প্রকার বিনিয়োগ ছাড়া লাইসেন্সদাতা তার কার্যক্রম বিভিন্ন

দেশে বৃদ্ধি করতে পারে।

(খ) এ ধরনের বিনিয়োগ লাইসেন্সগ্রহীতা ও বিশেষ করে, লাইসেন্সদাতার জন্য কম ঝুঁকিপূর্ণ। যেহেতু এটি কোনো

বিনিয়োগ প্রতিজ্ঞা নয়, অপরিচিত বা রাজনৈতিকভাবে অস্থির কোনো দেশে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে লাইসেন্সদাতাকে

কোনো ঝুঁকি মোকাবেলা করতে হয় না।

(গ) যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান বৈদেশিক বাজার বৃদ্ধির বিষয়ে আগ্রহী; কিন্তু প্রয়োজনীয় মূলধনের অভাব রয়েছে তাদের জন্য

লাইসেন্সিং বেশ আকর্ষণীয়।

(ঘ) লাইসেন্সিং অনুমতি গ্রহণের মাধ্যমে লাইসেন্সগ্রহীতা তার উৎপাদন প্রযুক্তির মধ্যে নতুনত্ব আনতে পারে এবং তার

নিজস্ব প্রতিযোগিতামূলক অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে পারে।

অসুবিধাসমূহ :

(ক) যেহেতু লাইসেন্সদাতা উৎপাদন, বিপণন বা কৌশলসমূহের ওপর শক্ত নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে না, তখন পণ্যের

মানের ধারাবাহিকতা কমে যেতে পারে।

(খ) বিশ্বব্যাপী বাজারে প্রতিযোগিতা করার জন্য কৌশলগত সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়, যেমন বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায়

টিকে থাকার জন্য অনেক সময় একটি প্রতিষ্ঠান এক দেশের প্রতিযোগিতামূলক আক্রমণ ঠেকানোর জন্য অন্য দেশে

অর্জিত আয় ব্যবহার করার কৌশল গ্রহণ করে থাকে, যা লাইসেন্সের মাধ্যমে সম্ভব হয় না।

(গ) আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জনের জন্য সে প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত জ্ঞান (know-how)

খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু লাইসেন্সিং চুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান তার প্রযুক্তিগত জ্ঞানের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে না।

(৩) ফ্র্যাঞ্চাইজিং( Franchising)

লাইসেন্সিংয়ের একটি বিশেষ রূপ হচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজিং, যেখানে শুধুমাত্র অদৃশ্যমান সম্পত্তি (সাধারণত ট্রেডমার্ক) বিক্রি করে

না, সেই সাথে ফ্র্যাঞ্চাইজিং কীভাবে তার ব্যবসা পরিচালনা করবে, সে সম্পকের্  কঠোর নিয়ম মেনে চলতে সম্মত হয়।

ফ্র্যাঞ্চাইজার (Franchisor) রয়্যালটি আয় হিসেবে ফ্র্যাঞ্চাইজির (Franchisee) আয়ের কিছু শতাংশ পেয়ে থাকে।

ফ্র্যাঞ্চাইজিংয়ের একটি বড় উদাহরণ হলো ম্যাকডোনাল্ড, যারা তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজিংগুলোর খাবারের মেন্যু, রান্নার পদ্ধতি,

কর্মীনীতি, রেস্তোরাঁর নকশা, অবস্থান, সরবরাহের চেইন, ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণসহ আর্থিক সহায়তা দান করে থাকে।

সুবিধাসমূহ :

(ক) ফ্রাঞ্চাইজারের বৈদেশিক বাজার সম্প্রসারণ সম্পর্কিত ব্যয় ও ঝুঁকি কমে যায়। বিশেষ করে সেবা প্রদানকারী

প্রতিষ্ঠানগুলো এই কৌশল অবলম্বন করে তুলনামূলক স্বল্প ব্যয়ে দ্রুত তাদের আন্তর্জাতিক ব্যবসায় সম্প্রসারণ করতে

পারে।

(খ) আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বাজারে বিভিন্ন ধরনের মানসম্মত পণ্য তৈরির ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব হয়।

অসুবিধাসমূহ :

(ক) ফ্র্যাঞ্চাইজিংয়ের একটি উল্লেখ যোগ্য অসুবিধা হলো মাননিয়ন্ত্রণ। ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে এবং ফ্র্যাঞ্চাইজির

পরিমাণ বেশি হলে পণ্য ও সেবার গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

(খ) ফ্র্যাঞ্চাইজিংয়ের সাথে বিভিন্ন ধরনের খরচ সম্পৃক্ত আছে। যেমন : সেবা খরচ, অনুসন্ধান খরচ, সম্পত্তির অধিকার

রক্ষা খরচ, তত্ত্বাবধান খরচ ইত্যাদি, যা এর মোট খরচকে বাড়িয়ে তোলে।

(গ) ফ্র্যাঞ্চাইজারের জন্য বৈশ্বিক কৌশলগত সমন্বয় (Global Strategic Coordination) করা কঠিন হয়ে থাকে।

(৪) টার্নকি প্রকল্প (Turnkey Projects)

টার্নকি প্রকল্প চুক্তিটি এমন একটি ব্যবস্থা, যাতে কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশের বাজারে সমস্ত প্রয়োজনীয় কার্যভিত্তিক

সংস্থাপনের জন্য দায়বদ্ধ হয় এবং পূর্বনির্ধারিত প্রয়োজনীয়তা সম্পন্ন হলে ব্যবসায়টি পরিচালনার জন্য বিদেশি

স্বত্বাধিকারীকে হস্তান্তর করে। ‘টার্নকি’ শব্দটি পরিচালনা শুরু করার জন্য দরজার চাবি খোলার প্রয়োজনের ধারণার ভিত্তিতে

ব্যবহার করা হয়েছে। টার্নকি প্রকল্পগুলো রাসায়নিক, ফার্মাসিউটিক্যাল, পেট্রোলিয়াম শোধনাগার, ধাতব শোধনাগার

ইত্যাদি জটিল এবং ব্যয়বহুল উৎপাদন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

সুবিধাসমূহ :

(ক) প্রযুক্তিগতভাবে জটিল প্রক্রিয়া, যেমন পরিশোধক পেট্রোলিয়াম বা ইস্পাতের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক আয়ের একটি বড়

উপায় হলো টার্নকি প্রকল্প। বিশেষত সেই সমস্ত তত্ত্বাবধায়ক দেশে, যেখানে বিশেষ মূলধন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে

নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ অনেক তেল রপ্তানিকারক দেশ তেল খাতে বিদেশি কোনো সরাসরি বিনিয়োগ

অনুমোদন দেয় না। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো এ ক্ষেত্রে টার্নকি প্রকল্পের মাধ্যমে সে সকল দেশের বাজারে প্রবেশ

করতে পারে।

(খ) কিছু দেশ রয়েছে, যাদের সম্পদ থাকলেও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির অভাব রয়েছে। টার্নকি প্রকল্পের মাধ্যমে যেমন এ

সমস্ত দেশ বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে, তেমনি বিক্রয় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের

মূল্যবান কারিগরি জ্ঞান ব্যবহার করে মুনাফা অর্জন করতে পারে।

(গ) রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল দেশগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ, সে ক্ষেত্রে বলা যায়,

টার্নকি প্রকল্প প্রচলিত বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (FDI)-এর চেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ।

অসুবিধাসমূহ :

(ক) অনেক সময় দীর্ঘ  মেয়াদে টার্নকি প্রকল্পে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান তাদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। বিশেষ করে কোনো

দেশ যখন কোনো পণ্য উৎপাদনের জন্য বড় বাজার হিসেবে বৃদ্ধি পায়, রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করে তাদের জন্য দীর্ঘ

মেয়াদে এই চুক্তির অনুপস্থিতি অসুবিধা তৈরি করে।

(খ) যে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো টার্নকি প্রকল্পে প্রবেশ করে তারা অজান্তেই দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষ প্রতিযোগী হিসেবে

প্রতিযোগিতা শুরু করতে পারে। যেমন : সৌদি আরব, কুয়েত ও অন্যান্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যে পশ্চিমা

সংস্থাগুলো তেল পরিশোধন প্রযুক্তি বিক্রি করেছিল, সেই রাষ্ট্রগুলোই এখন বিশ্বের তেল বাজারে সেই সংস্থাগুলোর

সাথে প্রতিযোগিতা করছে।

(গ) কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রক্রিয়া প্রযুক্তি (Process technology) যদি তার প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা (Competitive advantage) হয়ে থাকে, তবে টার্নকি প্রকল্পে অংশগ্রহণ করে প্রযুক্তিটি বিক্রির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তার

প্রতিযোগিতামূলক সুবিধাটি সম্ভাব্য বা প্রকৃত প্রতিযোগীর কাছে বিক্রি করে ফেলে।

(৫) ব্যবস্থাপনা চুক্তি( Management Contract)

ব্যবস্থাপনা চুক্তির ক্ষেত্রে কোনো একটি প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতা সরবরাহ করে থাকে। তত্ত্বাবধায়ক দেশের প্রতিষ্ঠানের

যদি ব্যবস্থাপকীয় সামর্থ্য না থাকে তখন সংশ্লিষ্ট দেশের প্রতিষ্ঠানকে প্রায়োগিক দক্ষতা বা ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতা সরবরাহ

করা হয়। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনা চুক্তির মাধ্যমে যেমন তত্ত্বাবধায়ক দেশ বিদেশি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পায়, তেমনি

বিদেশি সংস্থাগুলোয় মালিকানা নিয়ন্ত্রণ হ্রাস পায়। বিনিময়ে ব্যবস্থাপনা সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান মূলধন বিনিয়োগ না করে আয়

করতে সক্ষম হয়। সাধারণত যে সমস্ত ব্যবস্থাপনা সম্পর্কীয় কার্যক্রম এর অন্তর্ভুক্ত, তা হলো :

  • প্রযুক্তিগত উৎপাদন; যেমন : পণ্য উৎপাদন।
  • মানবসম্পদ পরিচালনা; যেমন : কর্মী প্রশিক্ষণ।
  • আর্থিক পরিচালনা; যেমন : হিসাবরক্ষণ।
  • বিপণন সেবা; যেমন : প্রচার।

কোন কার্যক্রমটি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হবে, তা নির্ভর করে তত্ত্বাবধায়ক দেশের প্রতিষ্ঠানটির

প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে।

সুবিধাসমূহ :

(ক) ব্যবস্থাপনা চুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির সময় যেমন সাশ্রয় হয়, তেমনি কাজের ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করা যায়।

(খ) এই চুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বগুলোর যথার্থ  বণ্টন হয়। এতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায়

থাকে।

অসুবিধাসমূহ :

(ক) এই চুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তার পরিচালনার কিছু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানটিতে স্থানান্তর করে। ফলে

প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব কার্যক্রমের ওপর সম্পূণর্  নিয়ন্ত্রণ থাকে না।

(খ) চুক্তিটি কার্যকর করার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে তাদের অনেক গোপনীয় তথ্য, যেমনঃ পণ্য, অর্থায়ন ইত্যাদি ব্যবস্থাপনা

প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করতে হয়। যেহেতু তথ্যগুলো তখন সেই নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, সুতরাং

তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার ঝুঁকি তৈরি হয়।

(৬) বৈদেশিক বিনিয়োগ (Foreign Investment)

বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠান তত্ত্বাবধায়ক দেশে বিনিয়োগ করলে তাকে বৈদেশিক বিনিয়োগ বলে। বৈদেশিক বিনিয়োগ দুটি

কাঠামোতে হতে পারে। যথা :

(ক) বৈদেশিক পোর্টফলিও বিনিয়োগ

(খ) বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ

নিম্নে এ ধরনের বিনিয়োগ সম্পর্কে  আলোচনা করা হলো :

(ক) বৈদেশিক পোর্টফলিও বিনিয়োগ (Foreign Portfolio Investment)

অর্থ  অর্জনের লক্ষ্যে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বন্ড, স্টক বা অন্যান্য আর্থিক সম্পত্তির মালিকানা গ্রহণ করাকে বৈদেশিক

পোর্টফলিও বিনিয়োগ বলা হয়। এই ধরনের বিনিয়োগ পণ্য ও সেবা উৎপাদনের সাথে জড়িত থাকে না। তত্ত্বাবধায়ক

দেশের প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ ও এর মুখ্য বিষয় নয়। এই ধরনের বিনিয়োগকে দুটি বিভাগে বিভক্ত করা যায়।

থ কৌশলগত বিনিয়োগ (Strategic Investment) বলতে সেই সমস্ত সম্পত্তি কেনা ও দীর্ঘ মেয়াদে ধরা রাখা

বোঝায়, যার দীর্ঘ  মেয়াদে বৃদ্ধির সম্ভাবনা কিংবা আয়ের ফলন রয়েছে কিংবা উভয়ই হতে পারে।

থ ট্যাকটিকাল বিনিয়োগ (Tactical Investment) বলতে স্বল্প মেয়াদে লাভ অর্জনের আশায় বন্ড, স্টক বা সম্পত্তির

সক্রিয় ক্রয়-বিক্রয় কে বোঝায়।

সুবিধাসমূহ :

(ক) বিনিয়োগের ঝুঁকি হ্রাস করে।

(খ) বিনিয়োগকারীরা যখন পোর্টফলিওর জন্য স্টক কেনেন, তখন তাঁরা কার্যকরভাবে স্টকের সাথে সম্পর্কিত মুদ্রাও

কেনেন। বিনিয়োগকারীর আন্তর্জাতিক পোর্টফলিও মুদ্রার মান উঠানামা করে নিরপেক্ষ করতে সহায়তা করে।

অসুবিধা :

বিনিয়োগকারীরা সাধারণত আন্তর্জাতিক স্টক ক্রয় ও বিক্রয় করার সময় কমিশন ও অন্যান্য চার্জের  বেশি অর্থ  প্রদান করে

থাকেন, যা লেনদেনের ব্যয় বৃদ্ধি করে তাদের সামগ্রিক আয় কমিয়ে দেয়।

(খ) বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (Foreign Direct Investment)

বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ হলো এমন এক ধরনের বিনিয়োগ, যেখানে বিনিয়োগকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তত্ত্বাবধায়ক

দেশের কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের মাধ্যমে মালিকানা অর্জন অথবা সরাসরি সেখানে নিজের প্রতিষ্ঠানের শাখা

প্রতিষ্ঠা বা খুলে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, ২০০৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যাপল তাদের তৃতীয় বৃহত্তম বাজার, চীনে

গবেষণা ও উন্নয়নের কাজকে তরান্বিত করতে ৫০৭.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছিল।

বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ কাঠামো গ্রিনফিল্ড বিনিয়োগ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। এ ক্ষেত্রে বিদেশে নিজের কোনো

প্রতিষ্ঠানের শাখা খোলা বা বৈদেশিক আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে কোনো কোম্পানিতে মূলধন বিনিয়োগ করে সংশ্লিষ্ট

কোম্পানির স্বত্ব অর্জন করে।

সুবিধাসমূহ :

(ক) বিদেশি বাজারে প্রবেশের জন্য এটি একটি কার্যকর উপায়। বিশেষ করে মূল্যবান ধাতু ও জীবাশ্ম জ্বালানির মতো

গুরুত্বপূর্ণ  প্রাকৃতিক সম্পদ অর্জনের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ  ভূমিকা রাখে।

(খ) শ্রমবাজার সস্তা হলে এবং বিদেশি বাজারে কম বিধি-নিষেধযুক্ত লক্ষ্যমাত্রা হলে বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের

মাধ্যমে বিনিয়োগকারীর উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পায়।

(গ) তত্ত্বাবধায়ক দেশের নতুন ব্যবসায়ীদের জন্য বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বহিরাগত মূলধনের উৎস হিসেবে কাজ

করে এবং বর্ধিত রাজস্ব সরবরাহ করে। এটি একটি উনড়বয়নশীল দেশের জন্য বহিঃমূলধনের বড় একটি উৎস হতে

পারে, যা দেশটির অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য সহায়ক। এর ফলে নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়।

(ঘ) এ ধরনের বিনিয়োগ সংক্রান্ত অর্থনৈতিক কার্যক্রম থেকে তত্ত্বাবধায়ক দেশ যে রাজস্ব আয় করে থাকে তা সরকার সে

দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করতে পারে। এর ফলে জীবনযাত্রার মানও বৃদ্ধি পায়।

(ঙ) বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশসমূহ নিজ দেশে নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠা ও বাজার সৃষ্টি করতে

পারে।

(চ) এ ব্যবস্থার মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক দেশ বিনিয়োগকারীদের নিকট হতে ‘সেরা অনুশীলনসমূহ’ চর্চা, পরিচালনার

কৌশল, সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সম্পকের্  জ্ঞান লাভ করার সুযোগ পায়, যা তাদের স্থানীয় ব্যবসা ও শিল্প বিকাশে সহায়তা

করে।

অসুবিধাসমূহ :

(ক) কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ  শিল্পগুলোতে বিদেশি মালিকানা দেওয়া হলে তত্ত্বাবধায়ক ‘তুলনামূলক সুবিধা’

(Comparative advantage) হ্রাস পায়।

(খ) এ ধরনের বিনিয়োগের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক দেশে বৃহৎ প্রতিষ্ঠান প্রবেশ করতে পারে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য

ঝুঁকিপূণর্  হতে পারে।

(গ) অনেক সময় বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ হতে অর্জিত মুনাফা তত্ত্বাবধায়ক দেশে পুনর্বিনিয়োগ না করে মুনাফার

প্রত্যাবাসন করে থাকেন। এ পরিস্থিতিতে তত্ত্বাবধায়ক দেশের বৃহৎ একটি মূলধনের বহিঃপ্রবাহ ঘটে।

আন্তর্জাতিক পণ্য, সেবা ও মূলধন লেনদেনের সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠানসমূহ বিভিন ড়ব রকম অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক কারণ দ্বারা

প্রভাবিত হয়। দেশগুলোর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও আইনি ব্যবস্থার ভিন্নতা আন্তর্জাতিক ব্যবসায়কে আরো জটিল করে

তুলেছে। এই সমস্ত পার্থক্য আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ের অনুশীলনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে সক্ষম। এই পাঠে

বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে, এমন বাহ্যিক পরিবেশ, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও

আইনগত পরিবেশ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক পরিবেশ (Economic Environment)

আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবেশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ  বৈশিষ্ট্যটির একটি হলো অর্থনৈতিক মাত্রা। সাধারণত কোনো দেশের

অর্থনীতিতে যে সকল বাহ্যিক উপাদান ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা ও ব্যয়ের ধরনের ওপর প্রভাব বিস্তার করে সেগুলোর

সমষ্টিকে অর্থনৈতিক পরিবেশ বা অর্থনৈতিক উপাদান বলে। উৎপাদনকারী বা বিপণনকারীকে তার নিজের দেশের এবং

সেই সাথে বিশ্ববাজারের ভোক্তাদের ক্রয় ক্ষমতা, ব্যয়ের ধরন ও ভোগপ্রবণতাকে বিবেচনা করতে হয়, বিভিন্ন দেশের আয়

বণ্টনের স্তরে কিছু পার্থক্য রয়েছে। যেমন :

(ক) যেসব দেশের অস্তিত্ব রক্ষামূলক সে সকল দেশের ভোক্তারা নিজেদের কৃষিপণ্য ও অল্প বিস্তর শিল্পপণ্য ভোগ করার

সুযোগ পায়।

(খ) যে সকল দেশের শিল্প অর্থনীতির সাথে আন্তর্জাতিক বাজারের সম্পকর্  রয়েছে, সে সকল দেশের বাজারে বিভিন্ন ধরনের

পণ্য রয়েছে এবং ভোক্তারা বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন প্রকার পণ্য ভোগ করার সুযোগ পায়।

(গ) উন্নয়নশীল অর্থনৈতিক অবস্থা এবং দুই ধরনের অর্থনীতির মাঝামাঝি অবস্থান করে যেখানে সঠিক পণ্য বিপণনের

ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ বিদ্যমান রয়েছে।

যে সমস্ত প্রধান অর্থনৈতিক বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক ব্যবসায়কে প্রভাবিত করে তা নিম্নে আলোচনা করা হলো :

(১) মুদ্রাস্ফীতি (Inflation)

মুদ্রাস্ফীতি হলো বিভিন্ন পণ্য ও সেবা ব্যয়ের একটি সূচক, যার দ্বারা একটি দেশের সামগ্রিক সরবরাহের তুলনায় দ্রুত

সামগ্রিক চাহিদা বৃদ্ধি পায় তখন আয়ের বৃদ্ধির তুলনায় পণ্যের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং মুদ্রাস্ফীতি ঘটে। ফলে মানুষের

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং গ্রাহকদের পণ্য কেনা কঠিন হয়ে পড়ে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে মন্থর করে দেয়।

(২) বেকারত্ব( Unemployment)

কোনো দেশের মোট বেকার শ্রমিককে মোট শ্রমশক্তি দ্বারা ভাগ করলে বেকারত্বের হার পাওয়া যায়। বেকারত্ব দেশের

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, সেই সাথে সামাজিক চাপ তৈরি করে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি

করে।

(৩) ঋণ ( Debt)

ঋণ হলো সরকারের মোট আর্থিক দায়বদ্ধতার পরিমাণ, যা সরকার গ্রহণ করে থাকে এর জনসংখ্যা, বিদেশি সংস্থা, বিদেশি

সরকার এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে। একটি দেশের সরকার যখন তার ঋণ পরিশোধ করতে পারে না এবং

খেলাপি হতে বাধ্য হয়, তখন সে দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। সেই সাথে এর প্রভাব অন্যান্য

দেশের অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে, বিশেষ করে সংকটে থাকা দেশটি যদি বিশ্ব অর্থনীতির সাথে গুরুত্ব

সহকারে যুক্ত থাকে।

(৪) আয় বণ্টন (Income Distribution)

গড়ে লক্ষ করা গেছে যে আয় বৈষম্যের বৃদ্ধি মাথাপিছু ট্রানজিশনাল জিডিপি (Transitional GDP per capita) বৃদ্ধি

কমিয়ে দেয় এবং দীর্ঘ  মেয়াদে মাথাপিছু জিডিপির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

(৫) আন্তর্জাতিক বাজারে ভোক্তার ব্যয়ের ধরনের পরিবর্তনশীলতা (Changing Consumer Spending Pattern in International Market)

সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য বা সেবা খাতে ভোক্তাদের পছন্দ-অপছন্দ, ব্যয়ের ধরন

পরিবর্তিত হচ্ছে। জনসাধারণের জীবনযাপনের মান, সঞ্চয়ের প্রবণতা, সুদের হার ইত্যাদি পণ্য বা সেবা বাজারে প্রচুর

প্রভাব বিস্তার করে। মানুষের আয় বৃদ্ধি পেলে খাদ্য, বস্ত্র ইত্যাদির সাথে সাথে চিকিৎসা, বাসস্থান, পরিবহন, শিক্ষা,

সংস্কৃতি, বিনোদনে প্রচুর পরিমাণে ব্যয় করছে, তবে ব্যয়িত অর্থের পরিমাণ দেশভেদে ভিন ড়ব হয়। ব্যয় বৃদ্ধির সাথে সাথে

ভোক্তার পছন্দ, রুচি, ব্যয়ের ধরনও পরিবর্তন হচ্ছে।

(৬) সঞ্চয়ের হার ও ঋণ প্রাপ্যতা (Saving Rate and Availability of Loans)

ব্যাংকের সুদের হার বৃদ্ধি পেলে জনগণের মধ্যে সঞ্চয়প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। সঞ্চয়ের বৃদ্ধির ফলে ঋণের সহজলভ্যতা তৈরি

করে, ফলে দেশে শিল্প-প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। উৎপাদন ও ভোগ বৃদ্ধি পায়, জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পায়। বৈদেশিক বাণিজ্যও

তরান্বিত হয়।

(৭) শ্রম ব্যয় ও উৎপাদনশীলতা (Labor Cost and Productivity)

অনেক পণ্য বা সেবার জন্য, শ্রম ব্যয় মোট ব্যয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ  উপাদান। ফলস্বরূপ প্রতিষ্ঠানগুলো সারা বিশ্বের মধ্যে

স্বল্পব্যয়কারী ও উচ্চব্যয়কারী দেশগুলোর মধ্যে তুলনামূলক ব্যয়ের গণনা করে এবং সাধারণত তাদের উৎপাদনশীলতা

যাচাই করে কম শ্রমমূল্যের উচ্চ উৎপাদনশীল দেশগুলোতে কার্যক্রম চালাতে আগ্রহী হয়।

রাজনৈতিক ও আইনগত পরিবেশ (Political and Legal Environment)

আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আইনগত বিষয়

দ্বারা প্রভাবিত হয়। সে কারণে প্রতিষ্ঠানের দক্ষ পরিচালকগণকে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের ধরন, সরকারি নীতির

স্থিতিশীলতা ও স্থায়িত্ব বিভিন্ন রাজনৈতিক ঝুঁকি ও সুবিধাগুলোকে সতর্কতার সাথে বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ

নিতে হয়।

রাজনৈতিক পরিবেশ (Political Environment)

সমাজের বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কার্যাবলিকে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রিত করে এমন আইন, সরকারি সংস্থা এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট

সকলের সমন্বয়ে সৃষ্ট পরিবেশকে রাজনৈতিক পরিবেশ বলে। নিম্নে রাজনৈতিক পরিবেশের উপাদানগুলোর প্রভাব নিয়ে

আলোচনা করা হলো :

(ক) সমাজে সরকারের ভূমিকা (Role of Government in Society)

রাজনৈতিক ব্যবস্থার লক্ষ্য একটি সমাজের বিভিন ড়ব উপাদানের মধ্যে সমন্বয় করা। দুটি মানের ওপর ভিত্তি করে একটি

দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের মূল্যায়ন করা হয়-এটি কী পরিমাণ স্বতন্ত্রতাবাদ বনাম সমষ্টিবাদকে জোর দেয় এবং এটি

কী পরিমাণ গণতান্ত্রিক বনাম স্বৈরাচারী। (স্বতন্ত্রতাবাদ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে

প্রাধান্য দেয়। অন্যদিকে সমষ্টিবাদে সমাজের প্রয়োজনকে ব্যক্তিগত প্রয়োজনের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়।)

স্বতন্ত্রবাদভিত্তিক দেশগুলো ন্যায্য প্রতিযোগিতা প্রসারের মাধ্যমে সমাজের কল্যাণ সাধনের জন্য ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত

করে। যখন বাজারে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হয়, সরকার আইন পণ্র য়ন ও প্রয়োগের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

সমষ্টিবাদকে সমর্থনকারী রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সরকার সামাজিক সাম্যতা, শ্রম অধিকার, আয়ের সাম্যতা ও কর্মক্ষেত্রে

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করে, যাতে ব্যক্তি স্বার্থের ওপর জাতীয় স্বার্থ  প্রাধান্য পায়।

(খ) রাজনৈতিক মতাদর্শ (Political Ideology)

একটি দেশের রাজনৈতিক মতাদশর্  সে দেশে রাজনৈতিক আচরণ ও পরিবর্তনের মতবাদকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং ধারণাকে

কাজে রূপান্তরের রূপরেখা তৈরি করে। স্বতন্ত্রবাদ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে

প্রাধান্য দেয় এবং সমষ্টিবাদে সমাজের প্রয়োজনকে ব্যক্তিগত প্রয়োজনের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ে

একটি দেশের ভূমিকা অনেকখানি সে দেশের রাজনৈতিক মতাদার্শ  দ্বারা প্রভাবিত হয়।

(গ) রাজনৈতিক ঝুঁকি (Political Risk)

রাজনৈতিক ঝুঁকি বলতে কোনো দেশের বিনিয়োগের লাভজনকতা এবং স্থায়িত্ব সম্পর্কিত কোনো সিদ্ধন্ত বা কার্যক্রমের

ওপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তারকারী হুমকিকে বোঝানো হয়। এ ধরনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ঘটনা বা শর্তগুলো কোনো

দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশকে এমনভাবে প্রভাবিত করে যে (১) বিনিয়োগকারীদের তাদের বিনিয়োগে কিছু বা সমস্ত মূল্য

হতে ব্যয় সংগঠিত হয়, (২) বিনিয়োগকারীদের তাদের প্রত্যাশিত ফেরতের হারের (Rate of return) চেয়ে কম ফেরতের

হার মেনে নিতে বাধ্য করে, (৩) স্থানীয় কার্যμমের স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে হুমকি প্রদান করে।

আইনগত পরিবেশ (Legal Environment)

আইনি ব্যবস্থা (legal system) হলো আনুষ্ঠানিক এখতিয়ারে আইনটি অনুধাবন করা, নির্ধারিত করা, ব্যাখ্যা করা এবং

প্রয়োগ করার প্রক্রিয়া। একটি দেশে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকার আইন দিয়ে ব্যবসায়িক পরিবেশের অনেক উপাদান নির্ধারণ

করা হয়। নিম্নে ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আইনগত দৃষ্টিভঙ্গির কিছু ধারণা দেওয়া হলো :

(ক) প্রয়োগগত (Operational) বিষয়

প্রতিটি দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কোনো ব্যবসার শুরু, চালানো ও বন্ধ করার বিষয়ে স্থানীয় আইন মেনে চলতে

হয়। কর্মী নিয়োগ, ঋণগ্রহণ, বিনিয়োগকারীদের রক্ষা, কর প্রদান, বৈদেশিক বাণিজ্য ও চুক্তি কার্যকর করার মতো

প্রয়োগগত বিষয়গুলোতে তত্ত্বাবধায়ক দেশের প্রযোজ্য আইনগুলো মেনে চলতে হয়।

(খ) কৌশলগত (Strategic) বিষয়

কৌশলগত বিষয় পরিচালকদের প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি বিষয়গুলোতে দৃষ্টি আকর্ষণ করে, যা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিযোগিতামূলক  দক্ষতা, লাভজনকতা ও স্থায়িত্বকে প্রভাবিত করে। একটি দেশের আইনি পরিবেশ প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি

দিককে প্রভাবিত করে এবং পরিচালকদের পণ্য তৈরি, বিপণন এবং মালিকানা রক্ষায় কৌশলগত সিদ্ধান্তকে রূপ দেয়। এ

ধরনের কিছু কৌশলগত বিষয় হলো : পণ্যের উৎস, বাজারের আচরণ, আইনি বিচার বিভাগ, পণ্যের সুরক্ষা ও দায়বদ্ধতা,

মেধা সম্পত্তির সুরক্ষা ইত্যাদি।

লেখকঃ আমু, ব্যাংকার

পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও পোস্ট
©2019 to till today at bankersdarpon.com, All rights reserved.
Site Customized By NewsTech.Com